ঢাবি প্রতিনিধি :
‘বাংলা চ্যানেল’ নামে পরিচিত কক্সবাজারের টেকনাফে শাহপরীর দ্বীপ থেকে সেন্ট মার্টিন সাগরপথ সাঁতরে পাড়ি দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়জন সাঁতারু। বিশ্ববিদ্যালয়ের আটজন শিক্ষার্থী এই সাতারের জন্য নাম লিখিয়েছিলেন। এদের মধ্যে দু’জন সাতারু ছাড়া বাকি ছয়জন পার হতে সক্ষম হয়েছেন।
বাংলা চ্যানেলের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬.১ কিলোমিটার। গতকাল সোমবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে সাঁতার শুরু হয়। মহান বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ‘১৬তম ফরচুন বাংলা চ্যানেল সাঁতার’ শিরোনামের এই আয়োজন করে ষড়জ অ্যাডভেঞ্চার ও এক্সট্রিম বাংলা বাংলা নামের দুটি সংগঠন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৮০ জন সাঁতারু নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় এই আয়োজন। এতে প্রথম হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও ডাকসুর সাবেক সদস্য সাইফুল ইসলাম রাসেল। তিন ঘণ্টা ৫০ মিনিট সময়ের মধ্যে তিনি বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন। এছাড়া প্রথম বারের মতো বাংলা চ্যানেল সাঁতারে অংশ নিয়ে বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক কৌশল (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইসতিয়াক উদ্দিন।
প্রথম স্থান অর্জনকারী মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম রাসেল বলেন, ঢেউগুলো এলোমেলোভাবে আসতেছিলো। লবণাক্ত পানি খেয়ে যাচ্ছিলাম, স্বাভাবিক সাঁতার কাটা যাচ্ছিলো না। অনেক প্র্যাকটিস ছিলো তাই এই পথটা পাড়ি দিতে পেরেছি৷ এর আগে চারবার বাংলা চ্যানেল সাঁতরে পাড়ি দিয়েছি। গত বছর একসঙ্গে ডাবল পাড়ি দিয়েছি। আজ সাগর অনেকটা প্রতিকূল ছিল। এর পরও প্রথম হতে পেরে ভালো লাগছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দলনেতা সাইফুল ইসলাম রাসেলের নেতৃত্বে গত ১৭ ডিসেম্বর সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশ্যে রওনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সাতারু টিম। সাতারে অবাক নেয়া বাকি ৭ জন হলেন– ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু তাহের, লেদার ইন্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী নাজমুল হোসাইন সুজন, সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাইফুল ইসলাম তপু, সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এবাদুল ইসলাম, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ আলী রওনক ইসলাম, আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আবু বক্কর সিদ্দিক। তারা সবাই বাংলা চ্যানেল একবার করে পাড়ি দিয়েছেন। এছাড়া প্রথম বারের মতো বাংলা চ্যানেল সাঁতারে অংশ গ্রহণ করছেন তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক কৌশল (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইসতিয়াক উদ্দিন।
এদের মধ্যে আলী রওনক ইসলাম ও নাজমুল হোসাইন সুজন এবারের এই আয়োজনে বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিতে পারেনি।
প্রথমবার অংশ নিয়েই বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেয়া ইসতিয়াক উদ্দিন বলেন, এক অন্যরকম অনুভূতি। প্রথমবার অংশ নিয়ে আমি দুর্গম এই পথ পাড়ি দিতে পেরে ভালো লাগছে। টেকনাফ টু সেন্টমার্টিন। ৫ ঘন্টা টানা উত্তাল সাগর পাড়ি দেয়ার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা নিয়েছি। ফাইনালি আমি বাংলা চ্যানেল জয়ী। আপনাদের ভালবাসার প্রতিদান দিতে পেরেছি এতেই আমার সেরা আনন্দ, শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি।
Leave a Reply